রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী

0 219

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যাঁর যাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করেন। আর যাঁরা দোষী, তাঁদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে, সেটা আমরা করব।’। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে  রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিন বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১২ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘জয়িতা টাওয়ার’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

লেখাপড়া শিখে আজকের শিশুদের ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করতে হবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আজকের ছেলেমেয়েদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যাঁর যাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করেন। আর যাঁরা দোষী, অবশ্যই তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে অনেক সতর্ক। সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধীদের খুঁজে বের করা হয়েছে। তা ছাড়া সবকিছুর ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তাই যেকোনো সময় যেকোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তাদের ধরে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ভবিষ্যতে এই গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা যাঁরা ঘটাবেন, তাঁদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেওয়া হবে। কেননা যে গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে, সে গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা আগুনে পোড়ে, তার জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এ কথাও মাথায় রাখতে হবে।

গত সোমবার রাতে রামপুরায় গাড়িচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয় নিহত হওয়ার পর এর প্রতিবাদে রাজধানীতে কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানও গাড়িচাপায় নিহত হয়।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারপারসন লাকী ইনাম এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খানও বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে জাতির জনকের ম্যুরাল এবং ‘জয়িতা টাওয়ার’–এর ওপর দু’টি ভিডিও চিত্রও পরিবেশিত হয়।

তিনি বলেন,  রাস্তাঘাটে চলার সময় সতর্ক থাকতে হবে, ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তার যেকোনো স্থান থেকে পারাপার হওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট পারাপারের স্থান দিয়ে পার হতে হবে। কেননা একটা চলমান গাড়ি ব্রেক ধরলে তার থামতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমার এখানে একটা প্রশ্ন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র জাতির কাছেই—এই যে দুর্ঘটনার পর আগুন দেওয়া শুরু হলো, এ গাড়িতে কি নারী-শিশু বা ছাত্রছাত্রীরা নেই? ওই আগুনে যারা পুড়বে, আহত হবে বা মারাও যেতে পারে, তার দায়িত্ব কে নেবে? খুব স্বাভাবিক বিষয় হচ্ছে, যারা আগুন দেবে, তাদের ওপরই দায় বর্তায়। তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সেভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে একজন মারা গেল বলে সেখানে আরও ২৫টি গাড়ি ভাঙা এবং আগুন দেওয়া, এটা কোন ধরনের কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাই আমি বলব, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আর গাড়িচালকদের আমি বলব, তাদেরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।’ জনবহুল এই দেশে গাড়ি চালানোর জন্য এ সময় সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং তাঁর সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.