পাঁচ বছর বয়সীদেরও টিকা দেওয়ার উদ্যোগ

0 269

দেশে করোনার টিকাদানের গতি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। চলতি মাসে ৩ কোটি ২৭ লাখের বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এখন টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন বয়সী ও পেশাজীবী গোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছে তারা। পাঁচ বছর বয়সীদেরও টিকা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সদস্যদেশগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলেছে। এর জন্য টিকাপ্রাপ্তি যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি সংগৃহীত টিকা পরিকল্পিতভাবে প্রয়োগও করতে হবে।

টিকার আলোচনায় পাঁচ বছর বয়সীদের টিকাদানের বিষয়টি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের করোনার টিকা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এর অর্থ দেশ দুটির পাঁচ বছরের বেশি বয়সী সব মানুষ করোনার টিকার আওতায় আসবে।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদদের একটি অংশ মনে করে, স্বাস্থ্য বিভাগ কী উদ্দেশ্যে টিকা দিচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার না। টিকাদানের মূল উদ্দেশ্য থাকে রোগ প্রতিরোধ করা। করোনার টিকা কতটা রোগ প্রতিরোধ করতে পারছে, তা এখনো পরিষ্কার না। করোনার টিকা দেওয়ার অন্য উদ্দেশ্য রোগের তীব্রতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। টিকা পাওয়া মানুষের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ও মৃত্যুহার কম।

ওষুধবিজ্ঞানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে করোনায় মৃত্যু বেশি। কম বয়সীদের চেয়ে বেশি বয়সীদের টিকার আওতায় আনলে সুফল বেশি পাওয়া যাবে।

১ থেকে ২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য বিভাগ মোট ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ডোজ টিকা দিয়েছে। অর্থাৎ এ মাসে এখন পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১১ লাখ ৩০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা বলেছেন, টিকাদানের এই গতি কমপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে, অর্থাৎ ১১ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার মানুষকে টিকা দিতে হবে।

দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ পর্যন্ত পূর্ণ দুই ডোজ পেয়েছেন ৬ কোটি ৫ লাখ ৮ হাজার মানুষ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে যা মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। আর ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর পূর্ণ দুই ডোজের আওতায় আনতে আরও ৫ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ডোজ টিকা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে আগামী ৫ মাসে ৮ কোটি ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ডোজ টিকা দিতে হবে। এটা সম্ভব বলে মনে করছেন ইপিআইয়ের কর্মকর্তারা।

অবশ্য পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হলে লক্ষ্যমাত্রায় পরিবর্তন আসবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মোট সংখ্যা ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার। এদের দুই ডোজ নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ৩১ কোটি ১৫ লাখ টিকার প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট টিকা এসেছে ২৪ কোটি ৮৯ লাখ ডোজ।

টিকাদানে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিলেট বিভাগের চারটি জেলা, অর্থাৎ সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় টিকাদানের হার কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার টিকা প্রয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মো. শামসুল হক বলেন, এই বিভাগে টিকাদানের হার বাড়াতে বাড়তি কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.