জুয়াড়ি ছেলের ঋণ পরিশোধে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিলেন মা
অনলাইন ডেস্ক:
জুয়াড়ি ছেলের ঋণ শোধ করতে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের টাকা চুরি করেছেন এক মা। পরে ধরা পড়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
চীনের সাংহাই প্রদেশে ঘটেছে এমন ঘটনা। ৬৩ বছর বয়সী ওই মা তার ৩৭ বছর বয়সী ছেলের জুয়ার ঋণ পরিশোধ করতে ৬৩ লাখ ইউয়ান বা ৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি করেন। এ সময় কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ২০ ইউয়ান বা ৩ ডলার রেখেছিলেন তিনি! কোম্পানিটিতে হিসাবরক্ষকের পদে চাকরি করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন বেরোনোর পর মা বাও কিহুয়া এবং তার ছেলে জিয়াং শিয়াওবিন জালিয়াতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
সাংহাই টিভির বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়েছেন। একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ টের পায় অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। তখন তারা পুলিশের কাছে চুরির অভিযোগ দেয়। ততক্ষণে কোম্পানির ব্যাংক ব্যালেন্স মাত্র ২০ ইউয়ানে নেমে গেছে!
কোম্পানির মালিক সাংহাই টিভিকে বলেন, ‘ওই ঘটনা আমাকে পাগল করে তুলেছিল।’
বাও স্বীকার করেছেন, জুয়া খেলে ছেলে বিপুল পরিমাণ ঋণ করে ফেলে। এই ঋণ পরিশোধের জন্য ছেলে তাকে জোরাজুরি শুরু করে। ছেলের পরামর্শেই তিনি কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি করতে শুরু করেন।
ওই মা আরও বলেছেন, ছেলেকে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার জন্য এটাই প্রথম টাকা চুরির ঘটনা নয়। ২০০৫ সালে ছেলে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখনো জুয়া খেলে বিপুল টাকা উড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ঋণ পরিশোধের জন্য ছেলেকে ৩ লাখ ইউয়ান বা ৪৩ হাজার ৩০০ ডলার তিনিই দিয়েছিলেন।
কিন্তু এরপরও ছেলের জুয়া খেলার প্রতি আসক্তি কমেনি। ঋণ জমতে জমতে একপর্যায়ে ১০ লাখ ইউয়ান হয়ে যায়। যখন টাকার জন্য আবার মায়ের কাছে আসেন। তখন সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলের ঋণ পরিশোধ করেন বাও।
বাও বলেন, ছেলের জুয়ার প্রতি আসক্তি যখন উভয়ের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে তখন ২০১৪ সাল থেকে সব ঋণ শোধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এই সময় ছেলে মাকে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কাছ থেকে ১২ লাখ ইউয়ান চুরি করতে রাজি করান। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বাও তখন তার চাকরিদাতার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরাতে শুরু করেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংহাই টিভিকে বলেন, অ্যাকাউন্টের টাকা একেবারে ফুরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কোম্পানি বুঝতেই পারেনি।
জিয়াং অবশ্য দোষ স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি আমার মায়ের জন্য খুবই দুঃখিত।