অধিকারের অপপ্রয়োগে খর্ব হয় স্বাধীনতা: রাষ্ট্রপতি
‘স্বাধীনতা মানুষের অধিকার। অধিকারকে অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে ওঠে। আবার অধিকারের অপপ্রয়োগ স্বাধীনতাকে খর্ব করে। স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে এক করে দেখলে চলবে না।’
স্বাধীনতা মানুষের অধিকার হলেও এর অপপ্রয়োগ স্বাধীনতাকে খর্ব করে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাই স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে এক করে না দেখার আহ্বান রেখেছেন তিনি।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গত বৃহস্পতিবার ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘স্বাধীনতা মানুষের অধিকার। অধিকারকে অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে ওঠে। আবার অধিকারের অপপ্রয়োগ স্বাধীনতাকে খর্ব করে। স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে এক করে দেখলে চলবে না।’
স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে এর সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
‘ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সব ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।’
স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করা একটি জাতির জন্য খুব কম সময় নয় বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম তা কতটুকু অর্জিত হয়েছে তার হিসাব মেলানোর। দেশ ও জনগণের উন্নয়ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের একক দায়িত্ব নয়। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
বঙ্গবন্ধু বই পড়ে বা একাডেমিক চর্চা থেকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অর্জন করেননি বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন গণমানুষের কাছ থেকে। তিনি জনগণের ভাষা বুঝতেন, তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রয়োজনের কথা জানতেন এবং সব সময় তাদের পাশে দাঁড়াতেন।’
কোভিড-১৯ মহামারি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি বলে জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হারও শূন্যের কাছাকাছি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে।’
বিজয়ের ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুবর্ণ আলো দেখতে পাওয়ার কথাও জানান আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাব। মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর শুভক্ষণে এটাই হোক সবার চাওয়া-পাওয়া।’
রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে যোগ দেয়ায় ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের প্রতি ধন্যবাদ জানান আবদুল হামিদ। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্বীকার করে কৃতজ্ঞতাও জানান।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’