গতকাল রোববার (৩০ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তবে এই শীত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। শীতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চলেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করতে চলেছে। যার সঙ্গে থাকা ঘূর্ণাবর্তের জেরে ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। বৃষ্টির পর ফের শীত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ মাহবুব রশীদ বলেন, যথারীতি পুরো মাঘ মাস পর্যন্ত শীত আবহাওয়া থাকবে। তবে এ শীতের মধ্যেই তাপমাত্রা কখনও বাড়বে, কখনও কমবে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরোর বিশেষ প্রতিনিধি জানান, মাঘ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। শীত ও কুয়াশা আরো বিস্তার লাভ করেছে। তীব্র শীতের সাথে গুঁড়িবৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশায় সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জনজীবনের গতি থমকে গেছে। অনেক স্থানে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, হাঁপানিসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর ভিড়ও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট-দুর্ভোগ অসহনীয়। সবখানেই শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনোমতে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন গরিব, নিম্নআয়ের মানুষজন। প্রচণ্ড শীতের দাপটে দিনমজুর-শ্রমিকদের কাজকর্মের সন্ধানে বাড়িঘরের বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং এর সংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর মধ্যদিয়ে দেশের বেশিরভাগ জেলায় একটি ‘শীতের বলয়’ তৈরি হয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। প্রায় সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।