জেলেনস্কি কে হত্যা মিশনে চেচেনদের দুর্ধর্ষ দল ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে রাশিয়ার পক্ষে লড়েছেন চেচেন মুসলিম আর্মিরা।যুদ্ধের ময়দানে তাদের নামাজ পড়ার বেশকিছু ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কে হত্যার করতে চেচেন আর্মিদের দুইটি দুর্ধর্ষ দল পাঠিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
রুশ অভিযান শুরুর পর থেকেই জেলেনস্কি কে অন্তত তিনবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে দ্যা টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের আগ থেকে সতর্ক করায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে দ্যা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়। জেলেনস্কি কে হত্যার জন্য ওয়ানগার ও চেচেন বিদ্রোহীদের দুইটি পৃথক হত্যাকারী দল পাঠানো হয়েছিল।
দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস ইউক্রেনের সতর্ক করে জানায় জেলেনস্কি কে হত্যা করার জন্য অভিজাত চেচেন বিশেষ বাহিনী নিয়ে গঠিত কাদিরভারদের একটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। তবে জেলেনস্কিকে হত্যার চেষ্টা রুখে দিয়ে ঐ বিশেষ বাহিনীকে ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেন।
জেলেনস্কিকে হত্যার জন্য যে বিশেষ আর্মি পাঠানো হয়েছে তারা মূলত বিশ্বের সব থেকে বিধ্বংসী আর্মি। পুতিনের বিশেষ অভিযানগুলোর দায়িত্ব পালন করেন এই চেচেন আর্মি। তবে শুধু বিশেষ বাহিনী নয় আরো বহু চেচেন মুসলিম আর্মি রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনে যুদ্ধ করছে।
ইউক্রেনের বিপক্ষে প্রকাস্য যুদ্ধের ঘোষণাও দিয়েছে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত। মুসলিম অধ্যুষিত রাশিয়ার চেচেনীয়া এই অঞ্চলের এই নেতা অনলাইনের এক ভিডিওতে বলেন, তার বাহিনী কোন রক্তপাত ছাড়াই ইউক্রেনের একটি সামরিক স্থাপনা দখল করে নিয়েছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চেচেন আর্মি। এ আর্মি ও চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভ বর্তমান।
তার বাবা ছিলেন চেচেনীয়ার প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালে আহমদের গুপ্তহত্যায় মেরে ফেলেন চেচেনীয়ার বিদ্রোহী দল। বাবার হত্যার পরে চেচেনীয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগপান রমজান।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে বেশ চ্যালেঞ্জে পড়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। এই জন্য কৌশল বদলেছেন। উপগ্রহ চিত্রে রাশিয়ার এই কৌশল ধরা পড়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়ার সাহায্যে ইউক্রেন দখল করবে বলে ধারনা করা হয়েছিলো। কিন্তু জেলেনস্কি বাহিনীর রোনো কৌশলে সেই ধারনা পালটে গেছে।
ফলে রাশিয়া নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। তবে নতুন কৌশল প্রয়োগের আগে ইউক্রেনের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাপোরিজ্জিয়া দখলে নিয়েছিল রাশিয়া।
এর আগে ইউক্রেনের স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর রাতের দিকে জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করে রুশ সেনারা।
এবার গোটা ইউক্রেন দখলে নিতে মরিয়া রাশিয়া। এজন্য দীর্ঘ ৬০ কিলোমিটার লম্বা কন ভয়ে এগোচ্ছে কিউরের পথে। মেক্সের টেকনোলজির প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে ইউক্রেনের উত্তর দিক থেকে রাশিয়া সে বিশাল কন ভয় এগিয়ে আসছে।
ইউক্রেনে অবস্থিত ইউরোপ মহাদেশের সবথেকে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করেছে রাশিয়া। শুক্রবার জাপোরিজ্জিয়া নামের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখলে নেয় রুস বাহিনী।এর আগে তারা ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলা ছুড়ে ছিল।এতে আগুন ধরে গেলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে থাকা কর্মকর্তারা কেন্দ্রটির তদারকির অব্যাহত রেখেছে।
বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে বর্তমানে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বিকিরণ স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। ইউক্রেনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে রাশিয়ার সৈন্যরা ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলা ছুড়লে এতে আগুন ধরে যায়। এতে তেজস্ক্রিয় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।সেসময় জরুরী সাহায্যের আবেদন জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।